বিশ্ববিখ্যাত ই-কমার্স ব্যাবসায়ী আমাজন এর প্রতিষ্টাতা-জেফ বেজোস সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

 

আমরা কমবেশি প্রায় সবাই ই amazon সম্পর্কে জানি কিন্তু আমরা এটার প্রতিষ্টাতা সম্পর্কে খুব বেশি জানি না কিভাবে তিনি এই অবস্থানে আসলেন সেটা ও ভালো ভাবে জানি না  আজকে আমরা জেফ বেজোস এর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং অজানা তথ্য জানব

 

জন্ম: জেফ বেজোস এর জন্ম ১২ জানুয়ারী ১৯৬৪ সালে। তার বাবার নাম ছিল জ্যাকলিন গিস জর্গসেন এবং মায়ের নাম ছিল টেড জর্গসেন। তার বাবা মায়ের বিয়ের এক বছর পরেই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বেজোস এর দাদুর নাম ছিল লরেন্স প্রিস্টন। তার জীবনে তার দাদুর অবদান ই সবচেয়ে বেশি তার কারণেই তিনি কম্পিউটার এর প্রতি ঝুকে পড়েন এবং যেটা তার পরবর্তী জীবনে সবচাইতে বেশি প্রভাব ফেলে এবং তিনি তার জীবনে কাঙ্খিত সফলতা লাভ করেন।

 

ক্রিয়েটিভিটি: তিনি তার ছোটবেলা থেকেই নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কারের নেশায় ডুবে থাকতেন। ছোটবেলায় তার একটা শখ ছিল কোন জিনিস কিভাবে কাজ করে সেটা বুঝার চেষ্টা করা এবং নষ্ট জিনিস মেরামত করা। ওই সময় এই তিনি অনেক জিনিস আবিষ্কার করে ফেলেন তার মধ্যে ছিল সোলার কুকার, ইলেকট্রিক অ্যালার্ম ইত্যাদি। আর এ থেকেই বুজা যায় তিনি একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ ছিলেন কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল মহাকাশ নিয়ে কাজ করা।

 

স্কুল লাইফ: জেফ বেজোস যখন হাই স্কুলে পড়তেন তখনই তিনি নিজেকে মেধাবী এবং একজন দক্ষ ছাত্র হিসেবে প্রমান করেছিলেন। তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়া শুরু করলে ও পরে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা করেন।

 

কর্ম জীবন এবং বিয়ে: কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিতে চাকরি করতেন যার নাম ছিল ফিটেল। সেখানে তার চাকরিটা ২ বছর টিকেছিল এরপর কিছুদিন ব্যাংকার্স ট্রাস্ট এ চাকরি করার পর যোগ দেন D E SHAW  নামের একটি ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মে। এই কোম্পানিতে কাজ করার সময় তিনি তার এক কলিগের প্রেমে পড়েন যার নাম ছিল ম্যাকেঞ্জি বেজোস এবং তারা ১৯৯৩ সালে তারা ২ জন বিয়ে করেন এবং কিছুদিন পর আমাজন এর প্ল্যান তৈরি করেন। তাদের জীবনে ৩ টি ছেলে এবং ১ টি মেয়ে ছিল মেয়েটিকে তারা চীন থেকে দত্তক নিয়েছিলেন।

জেফ যখন এই কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তিনি চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন এবং তার প্রথম কর্মচারী সেল কাপান কে নিয়ে আমাজন এর জন্য কাজ শুরু করেন। তিনি তার প্রথ অনলাইন শপিং এর নাম রাখেন Relentless.com পরে এটিকে দক্ষিণ আমেরিকার নদী আমাজন এর নামে নামকরণ করা হয়  এবং এর লোগো ডিজাইন এ যে a থেকে z পর্যন্ত তীর চিহ্ন রয়েছে সেটা দিয়ে জেফ বুঝিয়েছেন এখানে মানুষের সব প্ৰয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাবে।

 

কঠোর প্রতিযোগী এবং পরিশ্রমী: জেফ তার কোম্পানিকে নিয়ে অনেক সচেতন ছিলেন তিনি অলসতা মোটেও পছন্দ করতেন না এজন্য তিনি তার কোম্পানির জন্য সব সময় কর্মঠ এবং পরিশ্রমি মানুষ খুঁজতেন। অন্য কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতার দিক থেকে তিনি খুবই কঠোর প্রতিযোগী ছিলেন।

 

এক্সিডেন্ট: জেফ এর জীবনে একটি ভয়াবহ হেলিকপ্টার এক্সিডেন্ট হয় ২০০৩ সালে যার ফলে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান তার পর থেকে তিনি আর হেলিকপ্টার এ না চড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কোম্পানি ক্রয়:  তিনি ২০১৩ সালে Washington Post নামের একটি নিউজপেপার কোম্পানি কিনে নেন। প্রথমেই বলেছিলাম জেফ মহাকাশ সম্পর্কে পড়াশুনা করতে চেয়েছিলেন তার এই স্বপ্নের জন্য তিনি ২০১০ সালে ব্লু অরিজিন নামের একটি স্পেস করেন এবং মানুষকে কম খরচে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

ভবিষ্যতে হয়তো তিনি আর ও নতুন নতুন জিনিস নিয়ে আসবেন আমাদের জন্য যেটা আমাদের প্রযুক্তি কে আর ও এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।২০১৮ সালের ফোর্বস এর তালিকা অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বের সেরা ধনী হচ্ছেন জেফ বেজোস তার মোট সম্পদের পরিমান ১১৬.৮ বিলিয়ন ডলার।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *