বিশিষ্ট ই-কমার্স ব্যাবসায়ী জ্যাক মার অনুপ্রেরণার গল্প

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন ভেঙে যায় তখন হতাশ হয়ে পড়ি। তখন নতুন করে আর স্বপ্ন দেখার মন মানসিকতা থাকে না। এই পৃথিবীতে এমন কিছু ব্যাক্তি আছে যারা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর আবার নতুন করে স্বপ্ন বুনেছেন এবং শেষ পর্যন্ত্য সফল হয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন বার বার বার্থ হওয়ার পর ও কিভাবে সফলতা লাভ করা যায়। আজ এমনি এক সফল ব্যাক্তির সাথে আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিবো যিনি হলেন বিখ্যাত ই-কমার্স ব্যাবসায়ী “আলিবাবা গ্রুপ” এর প্রতিষ্ঠাতা “জ্যাক মা

 

জন্ম : ১৯৬৮ সালে

দেশ : চীন

শিক্ষা জীবনে পরীক্ষায় অকৃতকার্য : ২২ বার (প্রায়)

কর্ম জীবনে অকৃতকার্য : ৩০ বার

প্রথম বেতন : ১৫$

প্রতিষ্ঠাতা : আলিবাবা গ্রুপ

পৃথিবীর বৃহৎ ই-কমার্স বিজনেস : আলিবাবা গ্রুপ

অর্থের উৎস : ই-কমার্স বিজনেস

মোট সম্পদের পরিমান : ৪৭.৮ বিলিয়ন ডলার

র্যাংকিং : পৃথিবীর ২০ তম ধনী ব্যাক্তি

শ্রেষ্ট ধনী ব্যাক্তি : চীন

 

১৯৬৪ সালে চীনে জন্ম নেয়া এক বালক যার নাম ছিল “জ্যাক মা” ইংরেজি ভাষা শিক্ষার প্রতি তার ছিল দারুন আগ্রহ  এজন্য তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিনিট পথ পারি দিয়ে একটি হোটেলে যেতেন বিদেশী পর্যটকদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার জন্য। পরে ওই হোটেলে চাকরি নেন শুধুমাত্র ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার জন্য এবং বিনা পয়সায় সেখানে চাকরি করেন।  তিনি বিদেশী পর্যটকদের পথ প্রদর্শনের কাজ করতেন যার ফলে তার কিছু বিদেশী বন্ধু ও হয়ে যায়। সেই হোটেল এ তিনি টানা ৯ বছর কাজ করেন।

 

জীবনের প্রথম থেকেই ব্যার্থতা তার পিছু ছাড়ে নি প্রাথমিক স্কুলেই তিনি ২ বার এবং মাধ্যমিক স্কুলে ৩ বার অকৃতকার্য হন। কলেজ এর প্রথম দিকে ৩ বছর লাগিয়ে ফেলেছেন শুধুমাত্র তিনি ভর্তির উপযুক্ত আছেন সেটা প্রমান করতে তারপর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ ১০ বার ভর্তির আবেদন করে ও সফল হতে পারেন নি শেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন দেশীয় কোম্পানিতে চাকরি করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ টির  মতো কোম্পানিতে আবেদন করার পর ও তার চাকরি হয় নি শেষ পর্যন্ত্য উপায় না দেখে তিনি চীন এর রেস্টুরেন্ট “কেএফসি” তে চাকরির জন্য আবেদন করেন তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ যে সেখানে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ হন শুধুমাত্র “জ্যাক মা” ছাড়া। এমনই আর ও একটি চাকরির পরীক্ষায় ৫ জন এর মধ্যে ৪ জন উত্তীর্ণ হন শুধু “জ্যাক মা” এ অকৃতকার্য হন তার এসব দেখে মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। তার এই বেহাল অবস্থা তাকে খুবই আক্রান্ত করে।

 

শেষ পর্যন্ত্য ১৫ ডলার এর বিনিময়ে তিনি ইংরেজি প্রশিক্ষক  হিসেবে চাকরি পান। তিনি প্রথম ইন্টারনেট এর সাথে পরিচিত হন ১৯৯৪ সালে। ১৯৯৫ সালে তিনি আমেরিকা যান এবং এক বন্ধুর সাহায্যে প্রথম ইন্টারনেটের বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান লাভ করেন। ওই সময় তিনি ইন্টারনেট এ “বিয়ার” লিখে সার্চ দেন এবং অনেক তথ্য পান এই তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশের ভূমিকা থাকলে ও তার নিজের দেশের কোনো ভূমিকা না দেখে অনেক মর্মাহত হন তিনি। তারপর এক বন্ধুর সাহায্যে নিজদেশীও সাধারণ ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং ওই দিন এই কিছু মানুষের কাছ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পান যা তার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। তারপর ১৯৯৫ সালে তিনি তার  স্ত্রীর এবং তার কিছু বন্ধুদের সাহায্যে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় তাদের কোম্পানির কাজ ছিল চীনের বিভিন্ন কোম্পানীর জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা। মাত্র ৩ বছরের মধ্যে সেই কোম্পানি প্রায় ৮ লক্ষ ডলার এর মতো মুনাফা অর্জন করে। ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি “চীন ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রনিক কমার্স সেন্টার” এর প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

জ্যাক মা আলিবাবা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার জন্য তার ১৭ জন বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানান কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে তাদের মধ্যে ১৬ জনই  এই আইডিয়া কে একটি স্টুপিড আইডিয়া বলেন। কিন্তু এসব কথা শোনার পর ও তিনি স্বনির্ভর হয়ে তার চিন্তা ভাবনার যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং গড়ে তুলেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান “আলিবাবা ডট কম” প্রথমে চীন দেশে এটা শুরু করলে ও পরে এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে রূপ দেন। জীবনে বার বার ব্যার্থ হওয়া লোকটি প্রথমে ১৫$ দিয়ে জীবন শুরু করলে ও আজ তিনি ৪৭.৮ ডলারের মালিক এবং চীনের শ্রেষ্ট ধনী ব্যাক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *